দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর শহরের টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ এনে ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ মে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পর ওই ছাত্রী তার বাবাকে জানান যে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পরবর্তীতে থানায় গেলে ছাত্রীর এসএসসি পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের বিষয়টি সামনে এনে অভিযোগ প্রত্যাহার কিংবা অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।
ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল বলেন, ‘আমার মেয়ের নিরাপত্তা ও লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোনটি কেটে দেন।
পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে।’
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/অ